
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন চাকরিপ্রার্থী শারমিন আক্তার। সোমবার (১১ মে ২০২৬) দুপুর ১২ টায় সদরপুর উপজেলা ডাকবাংলোর দ্বিতীয় তলার মিডিয়া সেন্টারে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শারমিন আক্তার জানান, তিনি পূর্ব শ্যামপুর এলাকার বাসিন্দা এবং শামসুল হক মোল্যা ও সোনিয়া বেগমের কন্যা। তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশন, সদরপুর, ফরিদপুরের অধীনে প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগে আবেদন করেছিলেন।
তিনি অভিযোগ করেন, প্রায় তিন মাস আগে আবেদন করার পর সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে তাদের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরে ফরিদপুর তারার মেলা স্কুলে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ২৫ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। পরীক্ষায় ১৪ জনকে উত্তীর্ণ করার কথা থাকলেও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নানা অনিয়ম করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
শারমিন আক্তারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে ৩৫ নম্বর, পরে ২৫ নম্বর এবং সর্বশেষ ১৭ নম্বর পেলেই পাশ বলে জানানো হয়। এভাবে বারবার পাশ নম্বর পরিবর্তনের মাধ্যমে ফল প্রকাশে বিলম্ব করা হয়। পরবর্তীতে সন্ধ্যায় মাত্র ৫ জনকে উত্তীর্ণ দেখিয়ে ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, নিয়োগ পাওয়া ৫ জনই সদরপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কেয়ারটেকারের কন্যা, বোন, ভাবীসহ কর্তৃপক্ষের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজন। এছাড়া মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে শারমিন আক্তার বলেন, “পূর্বপরিকল্পিতভাবে নামে মাত্র পরীক্ষা নিয়ে দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত করলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।”
তিনি অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থায় তিনি ও অন্যান্য চাকরিপ্রার্থীরা বর্তমান নিয়োগ বাতিল করে পুনরায় স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জোর দাবি জানান এছাড়াও তিনি আরো বলেন আমাদের এই সমস্যা সমাধান হওয়ার আগ পর্যন্ত ইসলামিক ফাউন্ডেশন সদরপুর উপজেলার সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ রাখার জোর দাবি জানান।