
প্রায় ২ কোটি প্রবাসীর অধিকার আদায় ও কল্যাণে নিবেদিত সংগঠন বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ-এর ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৮ মে) বিকেল ৩টায় রাজধানীর পল্টনের আল-রাজী কমপ্লেক্সে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে “বর্তমান সরকারের নিকট প্রায় ২ কোটি প্রবাসীর প্রত্যাশা” শীর্ষক আলোচনা সভা, কেক কাটা এবং পথচারীদের মাঝে খাবার বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদের মানবপাচার প্রতিরোধ ও পুনর্বাসন সম্পাদক মো. শাহাব উদ্দীন শিহাব ও সৌদি আরব প্রবাসী অধিকার পরিষদের অর্থ সম্পাদক শেখ জাহিদ হাসানের যৌথ সঞ্চালনায় এবং প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমান লিমন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি)-এর সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদের সদস্য আবু হানিফ, আরিফুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, সহ-দপ্তর সম্পাদক আকন্দ মোহাম্মদ উজ্জ্বল। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সানাউল্লাহ, সিনিয়র সহ-সভাপতি নেওয়াজ খান বাপ্পি, দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ আলী ত্বোহা, যুব অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুনতাজুল ইসলাম, পেশাজীবী অধিকার পরিষদের গণমাধ্যম সম্পাদক রোকনুজ্জামান, গণসংস্কৃতি পরিষদের সদস্য সচিব রোমান খানসহ গণ, যুব, শ্রমিক ও পেশাজীবী অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় ও আন্তর্জাতিক শাখার নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আসিফ আহমেদ (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক), মিমজাল মুফতি (পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক), মোহাম্মদ ফোরকান (সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সংযুক্ত আরব আমিরাত শাখা),ফয়সাল সরকার (সদস্য, সিঙ্গাপুর শাখা), মো. আবু হানিফ হাওলাদার (সভাপতি, মরিশাস শাখা), মো. রেজাউল (সহ-সভাপতি, মরিশাস শাখা)।
অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত হয়ে সংগঠনের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. কবীর হোসেন প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা নিরসন ও অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের নিকট ১০ দফা দাবি পেশ করেন।
উপস্থাপিত ১০ দফা দাবি হলো—
১. অনিয়মিত, আনডকুমেন্টেড ও অসহায় প্রবাসীদের মরদেহ সরকারি খরচে দেশে আনার ‘নীতিমালা-২০২২’-এর দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।
২. জাতীয় সংসদ বা উচ্চকক্ষে প্রবাসীদের জন্য ন্যূনতম ১০% সংরক্ষিত আসন সাংবিধানিকভাবে নিশ্চিত করা।
৩. বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি বন্ধ এবং বিমান টিকিট সিন্ডিকেটমুক্ত করে সুলভ মূল্যে টিকিট নিশ্চিত করা।
৪. যুগোপযোগী দ্বৈত নাগরিকত্ব আইন প্রণয়ন ও প্রবাসীদের জন্য কার্যকর পেনশন সুবিধা চালু করা।
৫. পাসপোর্টে নাম ও বয়স সংশোধনের সহজ সুযোগ এবং দালালমুক্ত ডিজিটাল দূতাবাস সেবা নিশ্চিত করা।
৬. ‘প্রবাসী সুরক্ষা আইন’ প্রণয়ন, প্রতিটি জেলায় প্রশাসনিক সহায়তা কেন্দ্র এবং প্রবাসীদের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যবীমা চালু করা।
৭. জাতীয় বাজেটে প্রবাসীদের জন্য ৫% বিশেষ বরাদ্দ রাখা এবং পাঠ্যপুস্তকে ‘প্রবাস শিক্ষা’ অন্তর্ভুক্ত করা।
৮. অনথিভুক্ত প্রবাসীদের বৈধ করতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার এবং ঢাকা থেকেই ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর ভিসা ব্যবস্থা চালু করা।
৯. প্রবাসী অধ্যুষিত দেশগুলোতে পর্যাপ্ত দক্ষ জনবলসহ ‘শ্রম কল্যাণ উইং’ স্থাপন ও সেবা বৃদ্ধি করা।
১০. সরকারিভাবে (G2G) বিদেশে কর্মী প্রেরণের খরচ সর্বোচ্চ ১ লক্ষ টাকায় সীমাবদ্ধ করা এবং প্রবাসফেরতদের জন্য জামানতবিহীন ও সুদমুক্ত ঋণের ব্যবস্থা করা।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবহেলার শিকার। দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার স্বার্থে প্রবাসীদের যৌক্তিক দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা বর্তমান সরকারের নৈতিক দায়িত্ব।
অনুষ্ঠান শেষে ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটা হয় এবং সুবিধাবঞ্চিত পথচারীদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়।