
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ৬১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্ধারিত বিপিএম-৬ হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের পরিমাণ ৩০ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার।
শুক্রবার (৮ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে দেশের রিজার্ভ ছিল ৩০ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী মোট রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৫ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলারে।
এর আগের দিন বুধবার (৬ মে) বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ৩০ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে মোট রিজার্ভ ছিল ৩৫ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি মাসজুড়ে রিজার্ভে ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। গত ৪ মে বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ৩০ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার, আর বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে ছিল ৩৫ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার।
এছাড়া গত ২৩ এপ্রিল বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ৩০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে ছিল ৩৫ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার। ১৬ এপ্রিল এ পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৩০ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ও ৩৫ দশমিক ০৩ বিলিয়ন ডলার।
এরও আগে ১৫ এপ্রিল বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ৩০ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে ছিল ৩৪ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার। আর ৯ এপ্রিল এ রিজার্ভ ছিল যথাক্রমে ২৯ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ও ৩৪ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকেই বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রবণতা বজায় রয়েছে। গত ৮ জানুয়ারি আইএমএফের বিপিএম-৬ হিসাব অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ২৭ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন ডলার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে মোট রিজার্ভ ছিল ৩২ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার। সেই তুলনায় চার মাসের ব্যবধানে রিজার্ভ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রবাসী আয় বৃদ্ধি, রপ্তানি আয় প্রবাহ স্বাভাবিক থাকা এবং আমদানি ব্যয় কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে এ ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।