
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের (চন্দ্রপাড়া) মকিমখার ডাঙ্গী গ্রামে আড়িয়ালখা নদীর তীব্র স্রোত ও পানি বৃদ্ধির কারণে নতুন করে নদীভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে নদীর পাড়ের বিভিন্ন স্থানে মাটি ধসে পড়া ও ফাটল সৃষ্টি হওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলা এবং ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ মেরামত না করা হলে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মকিমখার ডাঙ্গী জামিলাতুল নেছা মহিলা মাদ্রাসাসহ বসতবাড়ি, কৃষিজমি এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অতীতে আড়িয়ালখা নদীর ভাঙনে চন্দ্রপাড়া মকিমখার ডাঙ্গী এলাকার বিস্তীর্ণ কৃষিজমি ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আবারও ভাঙনের আশঙ্কা প্রকট হয়ে উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মকিমখার ডাঙ্গী জামিলাতুল নেছা মহিলা মাদ্রাসার পাশ দিয়ে ২০২১ সালে নির্মিত প্রতিরক্ষা বাঁধের বিভিন্ন অংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে ও কিছু অংশে বাঁধ ও মাটি ধসে পড়তে শুরু করেছে। নদীতীরবর্তী এলাকায় বেশ কয়েকটি স্থানে ফাটলও দেখা দিয়েছে, যা স্থানীয়দের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে এলাকার অন্যতম ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মকিমখার ডাঙ্গী জামিলাতুল নেছা মহিলা মাদ্রাসা।
স্থানীয়দের দাবি, বর্তমানে মাদ্রাসাটি নদীর কিনারা থেকে মাত্র প্রায় ৩০ ফুট দূরত্বে অবস্থান করছে। ভাঙনের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
এছাড়া চন্দ্রপাড়া থেকে বাবুচর-পিয়াজখালী সড়কটিও নদীভাঙনের কারণে হুমকির মুখে রয়েছে। এই সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে এলাকার হাজারো মানুষের যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসী জানান, নদীভাঙন শুরু হওয়ার পর ব্যবস্থা নিলে ক্ষয়ক্ষতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা এবং স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের বিকল্প নেই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর নদীভাঙনের শিকার হলেও এখনো কার্যকর ও স্থায়ী কোনো সমাধান বাস্তবায়ন করা হয়নি। ফলে বর্ষা মৌসুম এলেই নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এলাকাবাসীর মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে মাদ্রাসাসহ আশপাশের বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং জনপ্রতিনিধিদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স্থানীয়দের একটাই দাবি—আড়িয়ালখা নদীর ভাঙন রোধে দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলা, ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত এবং স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়।