
নরসিংদীর বেলাব ও রায়পুরা থানা এলাকায় পৃথক দুটি মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে ৩০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ২১ বোতল বিদেশি মদসহ তিন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে নরসিংদী জেলা পুলিশ। উদ্ধারকৃত মাদকের আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ১ লাখ ৫১ হাজার ৫০০ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাদক নির্মূলে চলমান বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে ২৫ মে সকাল ও বিকেলে পৃথক সময়ে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার হওয়ায় এলাকায় জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং পুলিশের তৎপরতার প্রশংসা করছেন সচেতন মহল।
বেলাবে ইয়াবাসহ আটক ১
পুলিশ জানায়, ২৫ মে সকালে বেলাব থানাধীন ধুকুন্দি এলাকার চিপাঘাট নামক স্থানে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অভিযান চালান এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ মাহবুব আলী ও তাঁর সঙ্গীয় ফোর্স। এসময় সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে তল্লাশি করে তার কাছ থেকে ৩০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি হলেন সিলেট জেলার জকিগঞ্জ থানার গাগলাজোড় গ্রামের মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে আব্দুল হামিদ ওরফে মজিদ (৪১)। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৯০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন এলাকায় মাদক সরবরাহের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বিষয়টি অধিকতর তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
রায়পুরায় বিদেশি মদসহ আটক ২
একই দিন বিকেলে রায়পুরা থানার এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ তাজুল ইসলাম ও তাঁর সঙ্গীয় ফোর্স মাহমুদাবাদ এলাকার লিজা জর্দ্দা ফ্যাক্টরির সামনে পাকা সড়কে চেকপোস্ট ডিউটি পরিচালনার সময় দুই যুবককে আটক করে। পরে তাদের দেহ তল্লাশি ও বহনকৃত মালামাল পরীক্ষা করে ২১ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়।
আটককৃতরা হলেন মাধবদী থানার দক্ষিণ বিরামপুর চৌরাবাড়ি গ্রামের আহসান উল্লাহর ছেলে সোহাগ (২০) এবং একই থানার বাহেরচর গ্রামের সিরাজ মিয়ার ছেলে মোঃ মাসুম মিয়া (২৫)।
পুলিশ জানায়, উদ্ধারকৃত বিদেশি মদের আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৬১ হাজার ৫০০ টাকা। ধারণা করা হচ্ছে, এসব মাদকদ্রব্য বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের উদ্দেশ্যে বহন করা হচ্ছিল।
পুলিশের কঠোর অবস্থান
নরসিংদী জেলা পুলিশ জানিয়েছে, মাদক নির্মূলে তাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের সচেতন মহলেরও সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। মাদকের বিস্তার রোধে নিয়মিত নজরদারি ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।