
নরসিংদী জেলা পুলিশের নেতৃত্বে নতুন গতিশীলতা ও দৃশ্যমান পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে বর্তমান পুলিশ সুপার মোঃ আবদুল্লাহ্-আল-ফারুক–এর হাত ধরে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি কঠোর আইন প্রয়োগ, পেশাদারিত্ব, মানবিক আচরণ এবং অপরাধ দমনে দৃঢ় অবস্থানের মাধ্যমে জেলার সর্বস্তরের মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।
জেলা পুলিশের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়েছেন—অপরাধী যে-ই হোক, কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। তাঁর নেতৃত্বে নরসিংদী জেলা পুলিশ মাদক, সন্ত্রাস, চোরাচালান, অবৈধ অস্ত্র ও সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করছে। এতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
উচ্চশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তা
জানা গেছে, মোঃ আবদুল্লাহ্-আল-ফারুক দেশের স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে শিক্ষা জীবন সম্পন্ন করে ২৫তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। দীর্ঘ চাকরি জীবনে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করে সততা, দক্ষতা ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন।
সহকর্মীদের কাছে তিনি একজন শৃঙ্খলাবদ্ধ, দায়িত্বশীল ও মানবিক কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। মাঠপর্যায়ে সক্রিয় উপস্থিতি, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং জনবান্ধব পুলিশিং কার্যক্রমের কারণে সাধারণ মানুষের মাঝেও তাঁর ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে।
মাদক, অস্ত্র ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান
নরসিংদীতে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেন। তাঁর নির্দেশনায় জেলার বিভিন্ন উপজেলায় নিয়মিত সাঁড়াশি অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাদক কারবারি, চিহ্নিত সন্ত্রাসী, অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ী এবং চোরাচালান চক্রের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এতে অনেক অপরাধী এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে এবং মাদক ব্যবসা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
একই সঙ্গে থানাগুলোতে সাধারণ মানুষের অভিযোগ গ্রহণ, জিডি ও মামলা সংক্রান্ত সেবার মানও আগের তুলনায় সহজ ও হয়রানিমুক্ত হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। সাধারণ মানুষ যাতে দ্রুত ও সঠিক পুলিশি সহায়তা পায়, সে বিষয়ে পুলিশ সুপার নিয়মিত তদারকি করছেন।
অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা
সম্প্রতি নরসিংদী সদর উপজেলার আলোকবালী ইউনিয়নে “পুলিশ সদস্যদের কান ধরে উঠবস করানো হয়েছে” এমন একটি খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়।
এ প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার মোঃ আবদুল্লাহ্-আল-ফারুক বলেন, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার। একটি স্বার্থান্বেষী মহল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মনোবল দুর্বল করা এবং সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার জন্য পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে।
তিনি আরও বলেন,
“নরসিংদী জেলা পুলিশ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করছে। কোনো অপপ্রচার বা ষড়যন্ত্রই পুলিশকে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখতে পারবে না।”
এ ঘটনায় তিনি জনসাধারণকে গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান এবং যেকোনো তথ্য যাচাই করে গ্রহণের অনুরোধ করেন।
স্বচ্ছ নিয়োগে ইতিবাচক সাড়া
জেলার বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে, এবারের পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ কার্যক্রম স্বচ্ছতা ও মেধার ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়েছে। একটি সূত্র জানিয়েছে, মাত্র ১৩২ টাকায় সরকারি নির্ধারিত ফি প্রদান করে যোগ্য প্রার্থীরা চাকরির সুযোগ পেয়েছেন। এ বিষয়টি সাধারণ মানুষের মাঝে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
সচেতন মহল মনে করছে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীতে মেধাবী ও যোগ্য জনবল নিয়োগ হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি সম্ভব হবে।
প্রশংসায় ভাসছেন এসপি
জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমান পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে নরসিংদীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়েছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি জনবান্ধব পুলিশিং কার্যক্রমের মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, মোঃ আবদুল্লাহ্-আল-ফারুক–এর দক্ষ ও সাহসী নেতৃত্বে নরসিংদী আরও শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত জেলায় পরিণত হবে। জেলা পুলিশের কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করে অনেকেই পুলিশ সুপারসহ নরসিংদী জেলা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা