পবিত্র ঈদুল আজহার দিনে কুরবানীর গোস্ত আনতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার এক মৎস্যজীবী। নিহত আব্দুস সাত্তার (৫৫) সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়া মোল্লাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা।বৃহস্পতিবার (ঈদুল আজহার দিন) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে পদ্মা সেতুর নাওডুবা এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুস সাত্তার নিজ এলাকায় ঈদের নামাজ আদায় শেষে জন্মভূমি শরীয়তপুরে কুরবানীর গোস্ত আনার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথে নাওডুবা স্ট্যান্ডে বাস থেকে নামার সময় হঠাৎ বাসের ঝাঁকুনিতে তিনি গেট দিয়ে বাইরে পড়ে যান। এ সময় বাসের পিছনের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আব্দুস সাত্তারের পরিবারে স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তার মেয়ের জামাতা মাওলানা রেজাউল করীম দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।বাদ মাগরিব স্থানীয় মোল্লাবাড়ী জামে মসজিদ মাঠে মরহুমের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে মসজিদের পাশের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাজায় বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গসহ বিপুল সংখ্যক মুসল্লি অংশ নেন।জানাজায় উপস্থিত ছিলেন সদরপুর উপজেলা মুফতী বোর্ড ও বাংলাদেশ ইসলামী জনকল্যাণ ফাউণ্ডেশনের সভাপতি মুফতী মুহাম্মাদ জাকির হুসাইন ফরিদী, উলামা পরিষদের সভাপতি মাওলানা সাদিকুর রহমান সিদ্দিকী, ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি আব্দুল হামিদ মাস্টার, মাওলানা মোখতার হুসাইন, মাওলানা মিরাজুল ইসলাম এবং ঢেউখালী ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বয়াতীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।জানাজায় নিহতের এক ভাই জানান, তারা মোট সাত ভাই। আব্দুস সাত্তার ছিলেন সবার বড়। ব্যবসার কারণে তিনি পরিবার নিয়ে সদরপুরে বসবাস করলেও তার অন্য ভাইরা শরীয়তপুরে থাকেন। কুরবানীর গোস্ত আনার জন্য আগের রাতে তাকে ফোন করা হয়েছিল। সেই উদ্দেশ্যেই সকালে রওনা দিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি।এ ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: জাহিদ হোসেন (সজল)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৬/৫৭ শরিফ ম্যানশন মতিঝিল ঢাকা।
ই-মেইলঃ truthbangla2025@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত