ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা সদরের বি.এস ডাঙ্গী গ্রামে আপন বড় ভাইয়ের পরিবারে হামলার অভিযোগ উঠেছে এক নামধারী পীরের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত মিশকাত শরীফ (৪৮) দলবল নিয়ে বিধবা ভাবী ও এতিম ভাতিজার ওপর হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ঘটনাটি ঘটে গত সোমবার বিকেলে। আহত শামসুন্নাহার (৫০) ও তার ছেলে নাজিব শাহ (২৩) চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে কালবৈশাখী ঝড়ে তাদের প্রায় ১৩ বছরের পুরোনো একচালা টিনের ঘরটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনার দিন শ্রমিক দিয়ে ঘরটি মেরামতের কাজ চলাকালে পাশের বাড়ির দেবর মিশকাত শরীফ দলবল নিয়ে সেখানে হাজির হন। তিনি ঘরটি নিজের জায়গায় নির্মিত দাবি করে মেরামত কাজ বন্ধ করতে বলেন।
অভিযোগ রয়েছে, এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মিশকাত শরীফ লাঠি দিয়ে তার বড় ভাবী শামসুন্নাহারকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে অভিযুক্তের সহযোগীরাও তাকে মারধর করে এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
মাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে ছেলে নাজিব শাহকেও লাঠিসোটা, ইট-পাটকেল দিয়ে মারধর করা হয়। এতে তিনি রক্তাক্ত জখম হন।

মঙ্গলবার রাতে হাসপাতাল থেকে ফিরে শামসুন্নাহার সাংবাদিকদের জানান, প্রায় ১৩ বছর আগে সাড়ে ১০ শতাংশ জমি কিনে সেখানে বসতবাড়ি নির্মাণ করেন তারা। অন্যদিকে তার দেবর মিশকাত শরীফ দুই বছর আগে পাশের নদী এলাকায় জমি কিনে চাষাবাদ করছেন। এরপরও তিনি তাদের বসতভিটার জমি দাবি করে হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।
ঘটনার পর অভিযুক্ত মিশকাত শরীফ উল্টো থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন বলেও জানান ভুক্তভোগীরা। এর জেরে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরটির মেরামত কাজও বন্ধ রয়েছে। এতে আসন্ন ঝড়-তুফানের মৌসুমে পরিবারটি চরম দুর্ভোগে পড়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
এ বিষয়ে চরভদ্রাসন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, “উভয় পক্ষ থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। তাই দুই পক্ষকে ডেকে শুনানি ও তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত ঘর মেরামতের কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।”
ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে সুষ্ঠু সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: জাহিদ হোসেন (সজল)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৬/৫৭ শরিফ ম্যানশন মতিঝিল ঢাকা।
ই-মেইলঃ truthbangla2025@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত