মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরী ইনস্টিটিউটে বরখাস্ত শিক্ষকের অনিয়ম ও অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরী ইনস্টিটিউটের প্রাথমিক শাখার সংগীত বিভাগের বরখাস্ত হওয়া সহকারী শিক্ষক বিপাশা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে আনীত অনিয়ম, শৃঙ্খলাভঙ্গ, সহিংস কর্মকাণ্ড এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুর ১২টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর–রুনি হলে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের পক্ষ থেকে অভিযোগগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিনাত ফারহানা, সহকারী প্রধান শিক্ষক আহমাদ উল্লাহ কাসেমী, দিবা শাখার ইনচার্জ জেসমিন আহমেদ, প্রভাতী শাখার ইনচার্জ সুয়ারা সুলতানা, অন্যান্য সহকারী শিক্ষক ও অভিভাবকরা। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন প্রধান শিক্ষক জিনাত ফারহানা।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, সহকারী শিক্ষক (সংগীত) বিপাশা ইয়াসমিনকে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, সহিংস আচরণ এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১১ নভেম্বর অনুমোদিত শিক্ষক-কর্মচারী প্যাটার্নের বাইরে তাকে এডহক ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তৎকালীন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ও আমলাতান্ত্রিক মহলের পরিচয় ব্যবহার করে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে তার চাকরি স্থায়ী করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই তিনি বিদ্যালয়ের প্রশাসনের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে সহকারী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে তা গণমাধ্যমে প্রচার করেন। তবে অভ্যন্তরীণ তদন্ত, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এবং ডিএমপি ঢাকা উত্তর বিভাগের তিন দফা তদন্তে অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ দাবি করে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি নিজেকে বিভিন্ন আন্দোলনের নেত্রী পরিচয়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে শিক্ষক-কর্মচারীদের ওপর হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একাধিকবার মিরপুর-১০ সেনা ক্যাম্পের সদস্যদের হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে।
এছাড়াও ব্যক্তিগত প্রভাব ও অনৈতিক উপায়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে প্রভাবিত করার মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক জিনাত ফারহানার সরকারি বেতন ও আনুষঙ্গিক সুবিধা সাময়িকভাবে বন্ধ করানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়। পরে রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট ওই আদেশ স্থগিত করেন।
লিখিত বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়, শিক্ষক সমিতির শীর্ষ নেতা সেলিম ভূঁইয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ দেখিয়ে কোনো সদস্যপদ ছাড়াই বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক পরিচয়ে প্রচারণা চালিয়ে শিক্ষক সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেন তিনি।
এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে শিক্ষক ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে মানহানিকর ভিডিও ও ভুয়া কনটেন্ট ছড়িয়ে ডিজিটাল অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগও তোলা হয়। একইসঙ্গে মাউশির কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে ব্যবহার করে একের পর এক অভিযোগ দায়েরের মাধ্যমে হয়রানির কথাও তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, যোগ্যতা ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া ছাড়াই পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ ও জাহাঙ্গির কবির নাকরের ঘনিষ্ঠতা এবং প্রভাবশালী এক আমলার স্ত্রীর পরিচয় ব্যবহার করে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনে নিয়মিত শিল্পী হিসেবে কাজ করেছেন।
সব অভিযোগ, লিখিত আবেদন ও তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে শিক্ষা পরিবেশ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষার স্বার্থে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়ে গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীলভাবে প্রকৃত তথ্য উপস্থাপনের আহ্বান জানায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
সম্পাদক ও প্রকাশক: জাহিদ হোসেন (সজল)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৬/৫৭ শরিফ ম্যানশন মতিঝিল ঢাকা।
ই-মেইলঃ truthbangla2025@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত